লাখোটিয়ার ভাঙ্গা দেয়াল

লাখোটিয়া। এই অঞ্চলের নাম। বাংলাদেশের মোটামোটি অপরিচিত একটি অঞ্চল। বরিশাল জেলায় গহীনে অবস্থিত। আঞ্চলিক ভাষায় লাখোটিয়া নামটির রূপান্তর হয়েছে বেশ কয়েকবার। লাখোটিয়া লাখোটিয়া ডাকতে ডাকতে একসময় তা হয়ে যায় লাখুটিয়া, তারপর হয় লাকুটিয়া। সেখান থেকে এখন চলছে লাকুইট্টা। গল্প প্রচলিত আছে এক সময় লাখ লাখ টিয়া পাখি ছিল এই অঞ্চলটিতে। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে নামকরণ হয় লাখোটিয়া – লাখুটিয়া – লাকুটিয়া বা লাকুইট্টা। প্রকৃত ঘটনা যা ছিল, একসময় এই অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত জমিদারি ছিল রায় চৌধুরীদের। পাশাপাশি তারা অর্থসম্পদে ছিল যথেষ্ট বলশালী। একসময় পুরো অঞ্চলে রটে যায় যে রায় চৌধুরীরা লাখ টাকার নীচে কথা বলেন না। সেখান থেকে নাম আসে লাখোটিয়া। লাখ থেকে লাখো, টাকা থেকে টিয়া। লাখোটিয়া।

লাখোটিয়াতে স্বনামধন্য দীঘিটি আজও কোল পেতে বসে বিশ্রামহীন হয়ে। সবাই বলে বাবু বাড়ীর দীঘি। জামিদারদের তখন প্রজারা বাবু বলে ডাকতো। দীঘির এই পাড়গুলো দিয়ে হেটে গেলে মন খুব খারাপ হয় মন্দিরার। দীঘি, পেছনে ফেলে আসা ভাঙ্গা বাড়ীটা, ধারে কাছেই নারকেল গাছের বাগানটা, শ’য়ে শ’য়ে একর জমি, বিল, ধানক্ষেত, পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকা মঠ আজও অনেক ভার বহন করছে মন্দিরার জন্য। শুধু এই একটি মানুষের জন্যই। বাকিদের জন্যে হারিয়ে যাওয়া অতীত, যেমন হারিয়ে যায় অজস্র ইতিহাস। দীঘির বাঁধানো পাকা সিড়ির পাশে একা একা হাটছেন মন্দিরা। একসময় তিনি এই সিড়িতে বসে আনমনে রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইতেনঃ

“আমার বেলা যে যায় সাঁঝ-বেলাতে
তোমার সুরে সুরে সুর মেলাতে।
একতারাটির একটি তারে গানের বেদন বইতে নারে,
তোমার সাথে বারে বারে হার মেনেছি এই খেলাতে
তোমার সুরে সুরে সুর মেলাতে।”

গাইতে গাইতে কোথায়ও হারিয়ে ফেলতেন নিজেকে। আবার হঠাৎ ‘থপ্পত’ শব্দে চমকে ফিরে পেতেন নিজেকে। তাকিয়ে দেখতেন বিশাল লম্বা নারকেল গাছ থেকে নারকেল ছিড়ে পরেছে কাদা মাটিতে। নারকেলের সব পানি বেড়িয়ে মিশে যায় ধুলোয়। তিনি ভাবতেন কখনও যদি এমন একটি নারকেল তার মাথায় পরে?
মন্দিরা রায় চৌধুরী। বিয়ে হয়েছে মুখার্জী পরিবারে। কিন্তু তার পদবী আজও রায় চৌধুরী। এক সময় বংশের ফ্যামিলি ট্রি-তে কন্যাদের নাম দেয়া হত না তার অন্যতম কারণ ছিল এই যে বিয়ের পর তাদের পদবী পাল্টে যায়। মন্দিরা পাল্টায়নি।
মন্দিরা দীঘির পাড় ধরে আনমনে হেটে যাচ্ছেন ধীর পায়ে। স্বামী মুকুল চন্দ্র মুখার্জী পা চালিয়ে এসে মন্দিরাকে থামালেন। বললেন, হয়েছে আর যেও না। ফিরে চলো এবার।
মন্দিরা উত্তরে বললেন, আর একটু হেটে আসি?

– না আর যেও না, ফিরে এসো।
– কি হয় আর একটু হেটে এলে?
– তুমি জানো কি হয় তারপরও কেন জিজ্ঞেস করছো?
– কিচ্ছু হবেনা।
– না আমি চাই না তুমি অন্য প্রতিবারের মত আরও একটি রাত কষ্টে নির্ঘুম কাটাবে।
– আর কষ্ট, ঘুমালেই বা কষ্ট বিলীন হয় কি?
– হয়েছে ফিরে চলো এবার, এমন করলে কিন্তু আমি তোমাকে আর এখানে নিয়ে আসবো না।
– আচ্ছা যাচ্ছি। দুই মিনিট শুধু দাঁড়াই এখানটায়?
– আচ্ছা।

দুইটি শরীর দাঁড়িয়ে দীঘির পাড়ে, পাশাপাশি। মন্দিরা রায় চৌধুরী দাঁড়িয়ে থাকেন নির্বাক। পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন মুকুল চন্দ্র মুখার্জী। তিনিও চুপচাপ। একসময়ে এই অঞ্চলের বিশিষ্ঠ জমিদার ছিলেন দেবেন রায় চৌধুরী। আর মুখার্জীদের অবস্থান ছিল রায় চৌধুরীদের পরেই। দেবেন রায় চৌধুরী তার মেয়ের বিয়ে দেন মুকুল চন্দ্র মুখার্জীর সাথে ১৯৭৬ সালে। শুরুতে দেবেন রায় চৌধুরীর ইচ্ছে ছিল না মুকুল চন্দ্র মুখার্জীর সাথে মন্দিরার বিয়ে দেবেন। কিন্তু যার কথা তিনি কখনও ফেলতে পারতেন না, তার মা, মন্দিরার দাদী পুষ্পরানী রায় চৌধুরী। তার ইচ্ছেতেই দেবেন রায় চৌধুরীর ইচ্ছা হয় মুকুল চন্দ্র মুখার্জীর সাথে মেয়ের বিয়ে দিতে। সেসময় বরিশালে সেই বিয়ে হয় সবচেয়ে জাঁকজমক করে। হাজার মানুষ আসেন নিমন্ত্রণে। আজ এতগুলো বছর পর ২০১৫ সালে এসে সেটাই প্রমাণ হয় দাদী পুষ্পরানী রায় চৌধুরী ভুল ছিলেন না।
সামনের দীঘির উল্টো পাড়ে চোখ রেখে মন্দিরার মুখে হাসি ফুটে ওঠে অজান্তে। স্বামীর দিকে তাকিয়েও হাসেন। মুকুল একটু অবাক হয়ে ভুরুর ইশারায় বললেন, হাসছো কেন?
মন্দিরা বললেন – তোমার মনে আছে তুমি দীঘির ওই পাড়ে এসে দিনের পর দিন দাঁড়িয়ে থাকতে আমাকে দেখার জন্য পাঁচ ছ’ঘণ্টা করে।

– হু। খুব মনে আছে।
– সাথে থাকতো তোমার সাইকেলটা।
– হু। তাও মনে আছে।
– একা আসতে, তোমার বন্ধুরা ছিল না?
– থাকবে না কেন? তোমার বাবার ভয়ে আসতো না। কাউকে বললে বলতো, নারে বাবা তুই যেতে চাইলে যা। বাবু জানতে পাড়লে জানিনা কি হবে।
– তারপর?
– তারপর আর কি? একাই আসতাম।
– বাবাকে ভয় পেতে না তুমি?
– তখন কি আর অত কিছু মাথায় ছিল? বাবার কথা মাথাতেও আসতো না। চলে আসতাম তোমাকে দেখতে। চলো এবার যাই এখান থেকে।
– থাকি না আর কিছুক্ষণ।
– না আজ আর না। অন্যদিন আবার আসবে তো।

মন্দিরা এখন নিজেদের বাড়ীতে নিজে বেড়াতে আসেন মাঝে মাঝে। দীঘি থেকে প্রায় অর্ধেক কিলো রাস্তা হেটে যেতে হয় তাদের বাড়ীটায়। আজ যার পচাঁত্তর ভাগ বিলীন হয়ে গেছে। রাস্তার দু’পাশে সারিসারি নারকেল, সুপারি, তাল গাছে ভরপুর। বাবা গাছগুলো বপণ করেছিলেন। বাড়ীর চারপাশে শ’য়ে শ’য়ে একর জায়গা সব এক সময় তাদের ছিল। আজ তার এক ফোঁটা নিজের বলে দাবী করার অধিকার নেই মন্দিরার। স্বামী মুকুলকে নিয়ে মাঝে মাঝে বেড়াতে আসেন শুধু। যেদিন আসেন সেদিন যথেষ্ট সংগত কারণে তিনি সারারাত ঘুমাতে পারেন না। রাতে নিজের অজান্তেই তার চোখ থেকে পানি ঝরতে দ্যাখে মুকুল। সেকারণেই মুকুল চেষ্টা করেন এই বাড়ী থেকে মন্দিরাকে দূরে রাখতে।

মূল বাড়ীটির যেখানে সদর দরজা ছিল সেখান থেকে হেটে যেতে হয় আরও প্রায় অর্ধেক কিলো তাহলে পাওয়া যায় পাকা রাস্তা। পাকা রাস্তার দিকে যাওয়ার সময় হাতের বাম পাশে রয়েছে কয়েকটি মঠ ডান পাশে গাছের বাগান। পাকা রাস্তায় পৌছে হাতের ডানদিকে গেলে বরিশাল যাওয়ার রাস্তা আর বাম দিকে গেলে লাখোটিয়া বাজার। বরিশালের নতুন বাজারের কাঁচামাল যায় এই লাখোটিয়া বাজার থেকে। সেখানে বিক্রি হয় দেড়গুণ দুইগুণ দামে। বাবু বাড়ীতে প্রবেশ পথে শুরুতেই আছে একটি মসজিদ। দেবেন রায় চৌধুরী বানিয়ে দিয়েছিলেন তার মুসলমান প্রজাদের জন্য তার নিজের জমির সীমানার মধ্যেই।

অনেকদিন আগের কথা, যদিও মসজিদ বানানোর অনেকদিন পরের ঘটনা। দেবেন রায় চৌধুরী তার অঞ্চলে আশ্রয় দেয়া শুরু করেন নদী ভাঙ্গা অঞ্চলের মানুষদের। নদীর ভাঙ্গনে বাড়ীঘর জমিজমা সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে লোকজন তাদের পরিবার বাচ্চাকাচ্চাসহ এসে সাহায্যের জন্য হাত পাতে দেবেন রায় চৌধুরীর কাছে। দেবেন রায় চৌধুরী কাউকে ফিরিয়ে দিতে পারেন না। সবাই তার প্রজা, কাকে রাখবেন আর কাকে ফিরিয়ে দেবেন? তিনি ঠিক করেন তার সকল প্রজাদের জন্য তিনি আলাদা ভাবে জমি ছেড়ে দেবেন, চাষাবাদ করে খাওয়ার জন্যও কিছু জমি দেবেন।
একদিন তার কিছু ঘনিষ্ট প্রজারা আসে তার কাছে আর্জি নিয়ে। তারা বলে, বাবু একটু দয়া করুন। আর যাই করুন নদী ভাঙ্গা অঞ্চলের মানুষদের এই অঞ্চলে আশ্রয় দেবেন না বাবু। তাহলে আমরাই একদিন টিকতে পারবো না।
জবাবে দেবেন রায় চৌধুরী বলেছিলেন, সে কি! তোরা থাকতে পারবি না কেন? একি কথা বলছিস! কিছু হবে না, নিশ্চিন্তে বাড়ী যা। আর ওদের আশ্রয় না দিলে, থাকার জায়গা না দিলে ওরা যাবেটাই বা কোথায়?
প্রজারা বলেছিল, বাবু, এখন তো আমাদের আপণি আছেন। কিন্তু ভবিষ্যতে আমাদের সন্তানরা যে একেবারেই ভেসে যাবে বাবু। আপণি একটু ভেবে দেখুন।
দেবেন রায় চৌধুরী আর ভেবে দেখেননি। নদী ভাঙ্গা অঞ্চলের মানুষদের জন্য আলাদা ভাবে থাকার সুব্যবস্থা করে দিলেন। আলাদা করে জায়গা জমি ছেড়ে দিলেন। সবাই এখন তার প্রজা। প্রজাদের সব সুখ দুঃখ তাকেই দেখতে হবে।
তখন এই অঞ্চলে কোন গভীর নলকূপ ছিল না। দেবেন রায় চৌধুরী ঠিক করলেন এবার একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করবেন। থাকবে সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তার পরিবারের সবাই এবং পাশাপাশি যেন গ্রামের মানুষরাও এই বিশুদ্ধ পানি খেতে পারেন। কিন্তু টিউবওয়েল স্থাপনের জায়গা নিয়ে শুরু হয়ে গেল বিরোধ। জমিদার বাড়ীর দ্বারপ্রান্ত থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের পানি নিতে দ্বিমত না থাকলেও দ্বিমত পোষণ করলেন স্থানীয় মুসলমানরা। খলিল মাস্টার বললেন হিন্দু জমিদার বাড়ীর দ্বার থেকে পানি নেবেন এটা হতে পারেনা। ঐ পানি দিয়ে ওযু করলে ওযু হবে না বলেও কথা উঠলো। পরবর্তীতে দেবেন রায় চৌধুরী খলিল মাস্টারদের উপরেই স্থান নির্বাচনের দায়ভার অর্পন করেন। তারা তাদের নিজেদের কারও জায়গা নির্বাচন না করে নির্বাচন করেন বাবুর জমিতে বাবুর উদ্যোগে স্থাপিত মসজিদের পাশের জায়গা। দেবেন রায় চোধুরী সেখানটাতেই নলকূপ স্থাপন করেন। দেবেন রায় চৌধুরী যতদিন ছিলেন ততদিন গৃহকর্মীরা জমিদার পরিবারের ব্যবহারের জন্য সকালে চার কলস এবং সন্ধ্যায় চার কলস পানি নিয়ে যেতেন, প্রতিদিন।

কালপরিক্রমায় একদিন এক পুলিশ এলেন দেবেন রায় চৌধুরীর সাথে দেখা করতে। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন – বাবু, আপণি তো ব্রাহ্মণ, হাস মুরগী কিছু খান না, দীঘিতে এত হাস মুরগী পালেন এগুলো কার জন্য?
উত্তরে দেবেন রায় চৌধুরীকে বলতে শোনা যায় – ওগুলো যদি আমি না পালি তাহলে ওরা আমাকেই খেয়ে ফেলবে। ওরা এগুলো খেয়ে শান্তিতে থাকুক।

মন্দিরার মোবাইল ফোন বেজে উঠলো হঠাৎ। মোবাইলের সবুজ বোতামটি টিপে কানে নিতেই শুনতে পেলেন – মা কোথায় তোমরা? এখনও যাওনি? আবার ওই বাড়ীটায় গিয়েছ? কেন মা? কতবার করে বলেছি আর যেও না ওই বাড়ীটায়। একবারও কথা শোন না।

– কিছু হবে না, তুই চিন্তা করিসনা।
– কিছু হবেনা হবেনা করতে করতে তো আর কিছু না হবার বাকি থাকলো না।
– তুই শুধু শুধু এত চিন্তা করছিস।
– বাবা কোথায়, বাবা?
– তোর বাবা আছেন এখানেই।
– কোন জায়গায় তোমরা এখন?
– দীঘির পাড়ে।
– বাবাও পারেন। তিনি বার বার করে বলেন তোমাকে ওখানে নিয়ে যাবেন না আর কখনও, তার ঐ বলা পর্যন্তই।
– আহা তুই এত বকছিস কেন?
– মা আমি একটুও বকছি না সেটা তুমিও জানো। তোমরা নাকি কাদের সাথে দেখা করতে গিয়েছ? কারা তারা?
– ঢাকা থেকে কিছু ছেলেমেয়ে এসেছে। এমনি কথা বলতে চায়।
– হয়েছে কথা? কি চায় তারা? এবার ফিরে আসো।
– না এখনও দেখা হয়নি ওদের সাথে।
– মা তাড়াতাড়ি ফিরে এসো, আমার একটুও ভাল লাগছে না।
– চিন্তা করিস না মা, তাড়াতাড়িই ফিরে আসছি।

মন্দিরা রায় চৌধুরীর বিয়ে হয় ১৯৭৬ সালের ১৩ই জানুয়ারী। তারপর তিনি চলে যান কাশিপুরে। নিজের সংসার ধীরে ধীরে নিজের মত করে গড়ে তোলেন। একসময় তিনি একটি ছেলে একটি মেয়ে সন্তানের জননী হন। ছেলেমেয়েরা বড় হতে থাকে। মন্দিরা আর মুকুল মুখার্জীর স্বপ্ন নিজেদের ছেড়ে ছেলেমেয়েদের ঘীরে বেড়ে উঠতে থাকে। ছেলে দেবজয় মুখার্জী পড়াশুনা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। একসময় চলে যায় অস্ট্রেলিয়াতে। পাকাপাকি ভাবে সেখানেই বসবাস করতে থাকে। বিয়ে করে একজন অস্ট্রেলিয়ান নারীকে। এখন বছরে একবার আসে বাংলাদেশে। যখন আসে কয়েকবার করে ঘুরে আসে লাখোটিয়ায় পরিত্যাক্ত তার নানা বাড়ীতে। আর অন্য দিকে তাদের শান্ত মেয়েটিও বড় হতে থাকে। বিএ পাশ করে। একসময় বিয়ের সময় ঘনিয়ে আসে। মুকুল মুখার্জী পাত্র দেখতে থাকেন। মন্দিরা খুব বাচবিচার করেন। একটি মাত্র মেয়ে তার। চিন্তা যেন তাই আরও একটু বেশি। একদিন মুকুল মুখার্জী মুখে বেশ প্রশান্তির ছায়া নিয়ে একটি পাত্রের সব বৃত্তান্ত সহিত বাড়ীতে ফেরেন। পাত্র জজ। নাম জগন্নাথ পারে। মেয়ে পল্লবীকে দেখালে মেয়ে বাবার পছন্দে সায় দেয়। কিন্তু মন্দিরার কেন যেন মন টানে না। তবু শেষমেশ তিনিও মত দেন। বেশ জাঁকজমক করে মেয়েকে তুলে দেন জজ স্বামী জগন্নাথ পারের হাতে।
২০০৫ সালে ঝালকাঠিতে জেএমবি’র বোমা হামলা হয়। নিহত হয় দুইজন। তাদের মধ্যে একজন সোহেল আহমেদ এবং অন্যজন ঝালকাঠির জজ জগন্নাথ পারে।

– মুকুল, আমরা কলকাতায় কবে যাবো?
– এইতো যাবো, কিছুদিন পরেই। হঠাৎ এই কথা কেন?
– মাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে।
– ওহ, আমি ভাবলাম অন্য … এইতো আর অল্প কয়েকটা দিন, তারপরই যাচ্ছি। ভিসা তো হয়েই আছে।
– অন্য কোন কারণ কেন থাকতে যাবে? আমরা এখানে যথেষ্ট ভাল আছি। আমাদেরও তো কোন সমস্যা হচ্ছে না। কলকাতায় গেলেও প্রতিবার অনেকজনকে একটা প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়; ওখানে মুসলমানরা তোদের কোন অত্যাচার করেনা তো? আমি ওদের এই প্রশ্ন শুনে হাসি আর উত্তর দেই – না গো আমরা ওখানে এতগুলো বছর কাটিয়ে দিলাম আমাদের কোন সমস্যা হয় না। আমরা ওখানে সবাই মিলেমিশে থাকি। আমাদের কোন দ্বন্দ নেই কারও সাথে।
– ধর্ম একটা দেয়াল হয়ে দাঁড়ায় অনেক অঞ্চলে অনেক সময়। কম তো খবর পড়ছি না। আমাদের দেশেও যেমন হয়, অন্য কয়েকটা দেশেও হচ্ছে।
– একটা কথা কি জানো?
– কি?
– মা (ঝরনা রায় চৌধুরী) কলকাতায় আছেন শঙ্করের কাছে সেটাই অনেক ভাল হয়েছে। এখানে থাকলে পাগল হয়ে যেতেন। বাবা নেই অনেকদিন। একা একা থাকতেন, ভাল থাকতে পারতেন না।
– হু তা ঠিক। মা এমনিতেও নরম মানুষ। তোমার দাদীর মত শক্ত হলে অবশ্য আর সমস্যা থাকতো না।
– হ্যাঁ, দাদী অনেক কঠিন মানুষ ছিলেন। বাবার কাছে শুনেছিলাম, জমিদারী প্রথা বিলুপ্ত হবার পর দাদাজান যখন অনেক জমি হারালেন তিনি একদম ভেঙ্গে পড়েছিলেন। অসুস্থ হয়ে বিছানায় কাটিয়েছেন অনেকদিন। দাদী একাই তো সব সামলেছেন তখন।
– তোমাদের এই অঞ্চলের উর্বরতা বরাবরই ভাল ছিল। তারপরও দাদী যখন দায়িত্ব নিয়েছিলেন তা যেন আরও কয়েকগুন বেড়ে গিয়েছিল।
– আর উর্বরতা। ঐ কারণেই তো সব হারালাম আমরা।
– দেখলে সব সময় সব ভাল যে সবার জন্য ভাল হয় না।
– আইয়ুব খান যে বছর এলেন আমাদের বাড়ীতে, বাবাকে কত প্রশংসা করলেন। ঘুরে ঘুরে দেখলেন সব। দাদীর সাথেও কথা বলেছিলেন অনেকক্ষণ। দাদীকে জিজ্ঞেস করেছিলেন – এত মানুষ দেশ ছেড়ে চলে গেল ওপারে, আপণারা এখনও টিকে আছেন। আপণাদের ভয় করে না? দাদী বলেছিলেন – ভয় কিসের, আমার দেশ, আমার মানুষ সব এখানে। আমার কেন ভয় করবে?
– ঐ তখন থেকেই তোমাদের বাড়ীর উপর সরকারের চোখ পড়েছিল বুঝলে। শকুনের চোখ।
– দাদীর নামে লাখোটিয়া পি আর সি (পুষ্পরানী রায় চৌধুরী) স্কুলটা তো আইয়ুব খানই বানিয়ে দিলেন। বাবাকে করলেন স্কুলের সভাপতি।
– মুন্ডূ কাটবে বলে শরীরে মলম দিচ্ছিলেন আগে থেকেই। ঐ বেটার মাথায় এই দেশটা খাওয়ার পরিকল্পনা অনেক আগে থেকেই ছিল। মুক্তিযুদ্ধ তো আর এমনিতেই হয়নি।
– বাদ দাও, আর ভাল্লাগছেনা এসব নিয়ে কথা বলতে। কই কারা যেন এসছে ঢাকা থেকে বললে, কোথায় ওরা?
– ঢাকা নয় শুধু। দেশের বাইরেরও কয়েকজন আছে ওদের সাথে। শিল্পী সম্প্রদায়। দশ-এগারজন এসেছে। ইতিহাসের খোঁজে। নাম বলল উড়ন্ত শিল্প বিনিময় কর্মসূচী। আর তেমন কিছু জানিনা। আসুক, দেখি কথা বলে।

হাসলেন মন্দিরা। লাখোটিয়ার ইতিহাস। যে ইতিহাস খুড়িয়ে হাঁটছে অনন্তকালের খোঁজে!
কিছুক্ষণ পর দীঘির সিড়িতে বসে গল্প করতে করতে মন্দিরা-মুকুল মুখার্জী দেখলেন তিনটি ছেলেকে অটোরিক্সা থেকে নামতে। গেষ্ট হাউজের সামনে। উনত্রিশ-ত্রিশ হবে বয়স। বাজার নামাচ্ছে অটোরিক্সা থেকে। একজনের হাতে কাঁচাবাজার, একজনের হাতে বালতি, একজনের হাতে ঝুলঝাড়ু। গেষ্ট হাউজের ভেতর থেকে চারজন মেয়েসহ বেড়িয়ে এলো আরও কয়েকজন। সব মিলিয়ে নয় দশজন হবে। মুকুল মুখার্জী মন্দিরাকে বললেন ওরাই এসেছে ঢাকা থেকে। চলো যাই।
ওদের হাঁসি ঠাট্টা দেখে মন্দিরা ঠিক করলেন সব বলবেন, যদি ছেলেমেয়ে গুলো জানতে চায়।

মন্দিরা রায় চৌধুরীর চোখে কলকাতা লাখোটিয়া হাউজের একটি মুহুর্তের দৃশ্য ভেসে ওঠে। অনেকদিন পর মুকুল চন্দ্র মুখার্জী সেদিন গিয়েছিলেন মন্দিরাকে নিয়ে লাখোটিয়া হাউজে। কলকাতার আনন্দলোক, দমদমে। মন্দিরার ছোট ভাই দেবব্রত রায় চৌধুরী এই বাড়ীটি কিনে দিয়েছিলেন ১৯৯৬ সালে। তখন দেবেন রায় চৌধুরী পাকাপাকি ভাবে কলকাতা থাকতে বাধ্য হয়েছেন বড় ছেলে শঙ্কর রায় চৌধুরীর সাথে। অসুস্থ বাবাকে দেখতে কলকাতায় এসেছে মন্দিরা। বাবার ঘরে গিয়ে বাবাকে দেখে মন্দিরা রায় চৌধুরীর সারা শরীরে কাটা দিয়ে কি যেন একটা কিছু জ্বালিয়ে দিয়ে গেল তার বুক। নিজের কষ্ট চেপে রেখে গিয়ে বসছিলেন বাবার পাশে। দেবেন রায় চৌধুরী শুয়েছিলেন বিছানায়। তার শীর্ণ শরীর লেপ্টে আছে তোষকের সাথে। মন্দিরা বসলেন বাবার পাশে। ডাকলেন – বাবা। কেমন আছো বাবা?

– মাকাই, মা এলে?
– হ্যাঁ বাবা।
– আমি বরিশালে যাবো।
– যাবে বাবা।
– আমি বরিশালে যাবো, আমাকে বরিশালে নিয়ে চলো।
– যাবে বাবা আর কয়েকটা দিন যাক। নিয়ে যাবো তোমাকে বরিশালে।
– আমাকে নিয়ে চলো, পালিয়ে যেও না।
– না বাবা যাবো না।
– সবাই পালিয়ে চলে যায়। আমাকে কেউ নিয়ে যায় না। আমাকে রেখে যেও না।
– না বাবা যাবো না।
– আমাকে নেবে না?
– হ্যাঁ বাবা নেবো। আর দুটো দিন যাক?

দেবেন রায় চৌধুরীর জীবনের শেষ দিন গুলোয় কলকাতা থেকে মন্দিরা পালিয়ে আসতেন বাবার কাছ থেকে। আর দেবেন রায় চোধুরী থাকতেন বরিশালে ফেরার অপেক্ষায়। তারপর একদিন দিনটি এলো, ২০০৯ সালের ২৭শে মে। দেবেন রায় চৌধুরী তাকিয়ে ছিলেন সিলিংয়ের দিকে, বাইরে তখন কেমন ভাল না লাগা আবহাওয়া, দেখলেন তিনি অনেক বছর আগের বরিশালে ফিরে গিয়েছেন।

কয়েক’শ বছর আগে আফগান থেকে ব্যবসায় করতে আসেন রামচন্দ্র খাঁ। সেখান থেকে গোড়াপত্তন হয় এই জমিদার বংশের। তার পরের বংশধর রুপ চন্দ্র খাঁ। তারপর পরিবর্তন আসে। খাঁ পরিবর্তিত হয়ে হয় রায়। রুপ চন্দ্র খাঁ’র উত্তরাধিকারী হন দূর্গারাম রায়। তার পরের বংশধরের নাম হয় ঘনশ্যাম রায় চৌধুরী। এই চৌধুরী উপাধিটি সংযোজন করে ব্রিটিশরা। ব্রিটিশরা থাকেন দুইশ বছর। ব্রিটিশ আমলে যখন ব্রিটিশ সরকার জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত করে তখন এই লাখোটিয়া জমিদারদের ১৬৬.৯৭ একর জমি নিয়ে নেয় ব্রিটিশ সরকার। আর জমিদারদের এই ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়। যাতে লাখোটিয়া রায় চোধুরী এস্টেটের নামে নির্ধারিত হয় ৫২৭৯৮.০২ টাকা। যার খুব সল্প পরিমাণ অর্থ প্রাপ্য হিসেবে আদায় করতে পেরেছিলেন রায় চৌধুরীরা। ঘনশ্যাম রায় চৌধুরীর পরে আরও চারটি বংশ কেটে গেলে তারপর পৃথিবীর আলো দেখেন দেবেন রায় চৌধুরী এবং তার ভাই পঙ্কজ রায় চৌধুরী। পঙ্কজ রায় চৌধুরী এখন বসবাস করছেন অস্ট্রেলিয়ায়। অস্টেলিয়ার ডারউইন কমিউনিটি কলেজের ভাইস প্রিন্সিপ্যাল ছিলেন।
মন্দিরার বয়স তখন আট বছর। দিনগুলো খুব আনন্দের ছিল তার। কারণ একটাই, সম্পূর্ণ বাড়ীতে লোকজন ভর্তি। আর সে যেহেতু বয়সে ছোট বাড়ীর যেকোন জায়গায় যাওয়ার, ঘুরে ঘুরে দেখার অনুমতি তার আছে। এমনকি বাড়ীর অন্ধকূপ ভর্তি অস্ত্রশস্ত্র সব কিছু দেখার অনুমতিও তার আছে। সে খুব খুশি। খুব ঘুরছে, আর সব কিছু দেখে বেড়াচ্ছে। এত অস্ত্রশস্ত্রের কারণ একাত্তর। মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের একটি ট্রেনিং ক্যাম্প বসানো হয়েছে বাড়ীতে। জমিদার বাড়ীর চারপাশে বিশাল প্রশস্থ খোলা মাঠ। তিন চারশ মুক্তিযোদ্ধা ট্রেনিং নিচ্ছে এখানে। ক্যাপ্টেন বেগ আর মেজর জলিল ট্রেনিং দেন। মন্দিরার মা ঝরনা রায় চৌধুরী এবং দাদী পুষ্প রানী চৌধুরীসহ আরও কিছু মানুষ মিলে ব্যাবস্থা করেন রান্নাবান্নার।
একদিন মন্দিরা খেলছিলেন। ঠিক এমন সময়ে একজন পায়ে একটি গুলি নিয়ে ফিরে এলেন এই বাড়ীতে। সাথে এলো দুঃসংবাদ। কিছুক্ষণ পর এলেন নুর ইসলাম মঞ্জু। তিনি দেবেন রায় চৌধুরীর বন্ধু মানুষ। দেবেন রায় চোধুরীকে বললেন – দাদা, এখানে আর থাকা যাবে না। আপণি চিহ্নিত হয়ে গেছেন। আর যেহেতু এখানে টেনিংও হচ্ছে এখানে আপণার আর থাকা ঠিক হবে না।

– দেবেন রায় চৌধুরী বললেন – আমি কোথায় যাব, সব রয়েছে আমার এখানে, সব ফেলে আমি কিভাবে যাব?
– সব পরে বলবো, আপণি আমাদের সাথে চলুন আগে।
– আমার ছেলেমেয়ে সব ছোট এখন আমি কিভাবে যাব?
– আপণার ছেলেমেয়ে ছোট দেখেই বলছি, আপণি চলুন। সবাইকে নিয়ে এখনই চলুন। আমি পরে আবার দেখা করব। দেখি আমি একটি গয়নার নৌকা ঠিক করে দিচ্ছি।
– আমি কোথায় যাব?
– আপণি স্বরুপকাঠীতে চলে যান, আটঘর কুড়িয়ানায়। তালতলিতে গোলাগুলি হচ্ছে। আজ রাতে চলে যান।
– আচ্ছা।

সেই রাতে দেবেন রায় চৌধুরী পরিবারের সবাইকে নিয়ে বেড়িয়ে গেলেন। সাথে আরও পাঁচ-ছয়টি পরিবার। শহর থেকে ওরা পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছিলেন দেবেন রায় চৌধুরীর বাড়ীতে। সবাই মিলে আশ্রয় নিলেন অনেক দূরের নদীর পাড়ের এক প্রজার বাড়ীতে। পরদিন রাতে আবার দুইটি গয়নার নৌকা ভাড়া করে লাখোটিয়া খাল থেকে বাবুগঞ্জ হয়ে পালিয়ে চলে যান আটঘর কুড়িয়ানায়। আটঘর কুড়িয়ানায় নুর ইসলাম মঞ্জু দেখা করেন দেবেন রায় চৌধুরীর সাথে। সেখানে দুইদিন থাকার পর আরও অনেক মানুষসহ তিনটি লঞ্চে করে সুন্দরবনের ভিতর দিয়ে খালবিল সব পেড়িয়ে এগার দিনের দিন সবাই পৌছে গেলেন কলকাতায় বাগুইহাটিতে। বাগুইহাটিতে তারা অবস্থান করেন এগার মাস একটি বাড়ী ভাড়া করে। এগার মাস পরে যখন ফিরে এলেন একটি উৎসব মুখর বাড়ী ফিরে পেলেন দেবেন রায় চৌধুরী। সিংহ দরজা থেকে শুরু করে প্রচুর মানুষের সমাগম। চারিদিকে জয় জয়কার। বাড়ীর ছত্রিশজন কাজের লোক ছাড়াও বাড়ীতে আরও অনেক লোকের উপস্থিতি। সন্ধ্যা নেমে এলেই বাড়ী আলোকিত করতে জ্বালানো হত এগারটি হ্যাজাক বাতি আর সাথে বিশটি হ্যারিকেন। সাথে মোমের আলো জ্বালানো হত ঝাড় বাতিতে। গভীর রাতে আলো সব নিভে যেত। কিন্তু জ্বলে উঠত প্রতিটি দেয়ালের আভ। জোছনার আলোয় আলোকিত হত বাড়ী।
হঠাৎ করে আলো অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করে। দেবেন রায় চৌধুরী তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে বোঝার চেষ্টা করেন আসলে কি হচ্ছে। কিন্তু আলোর তীর্যক তার চোখ ঝলসে দেয় প্রায়। তিনি আর তাকিয়ে থাকতে পারেন না। বাধ্য হয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলেন। বন্ধের আগ মুহুর্তে শুধু দেখতে পেয়েছিলেন প্রচন্ড আলোয় তার বাড়ীটি দাঊদাঊ করে জ্বলছে। বন্ধ চোখে একটু শান্তি অনুভব করেন।

তারপর দেবেন রায় চোধুরী পুনরায় চোখ মেলে তাকালেন। দৃষ্টিতে যা দেখতে পেলেন সব কিছুই ঘোলা। আবার বন্ধ করলেন, এবার দেখলেন তিনি আবার বরিশালে ফিরে এসেছেন। এবার জনমানবশূন্য তার সেই বাড়ী, শ্যাওলা ধরে গেছে পাঁচিলে, বাড়ীর লোহার সেই বিশাল গেটটি এখন আর নেই। কারা যেন খুলে নিয়ে গেছে। বাড়ীর অনেকখানি ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে বাড়ীর ইট। কারা যেন বাড়ীর দরজা, জানালা, শিক সব খুলে নিয়ে গেছে। ভিতরের আসবাব বলতে আর তেমন কিছু নাই। লুট হয়ে গেছে সব। দেবেন রায় চোধুরীর বুকে খুব চিনচিনে ব্যাথা অনুভব হয়। তিনি আর ওখানে দাঁড়িয়ে থাকতে পারলেন না। উল্টো ঘুরে দীঘির দিকে হাটা শুরু করলেন। দীঘির দিকে হেঁটে যেতে যেতে তার কপালের কুঁচকানো চামড়া শান্ত হয়ে এলো। ঠোঁটে হাসি ফুটে উঠলো। পথের দুই পাশে তার বপন করা বীজগুলো বড় হয়ে এখন গাছে পরিণত হয়েছে। ওরা সবাই আকাশের দিকে রওনা দিয়েছে। তাকে দেখে গাছপালা গুলো সব একসাথে নড়েচড়ে উঠলো পাতায় শব্দ নিয়ে। এদিকটায় সবুজ অনেক বেশি। বুক ভরা প্রশান্তি ছুঁয়ে গেল অন্তরে। ঠোঁটে হাসি নিয়ে দেবেন রায় চৌধুরী সোজা হেটে চলে গেলেন দীঘির পাড়ে। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে তাকিয়ে থাকলেন দীঘির ওপারের তালগাছটির দিকে। ওপারে তালগাছটি একা, ওর পৃথিবীতে আর কেউ নেই। এপারে দেবেন রায় চৌধুরীও তাই। তিনি মগ্ন হয়ে নেমে গেলেন পানিতে। তারপর ধীরে ধীরে তলিয়ে গেলেন। আর জাগলেন না।

© Shihab Shahariare Khan || developed by digibinary ||